সম্পদে নারীর অধিকার

আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত ধারণা যে, নারীদেরকে ধর্মে সম্পদের বেলায় ছেলের অর্ধেক অধিকার দিয়েছে। নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন একটি ৮০’র দশক থেকে সব ধর্মের নারীর পারিবারিক জীবনে সমতা, সমানাধিকার ও সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে। সম্পদে নারীর সম অধিকারের দাবির পক্ষে যুক্তি দেখানো হয়, নারীর ক্ষমতায়নের প্রথম ও প্রধান শর্ত, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। আর এ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই সম্পদে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এক নারীনেত্রীর মতে, ‘পারিবারিক আইন এখনও ধর্মভিত্তিক রয়ে গেছে- এটা বৈষম্যমূলক। এ ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলেরই দায়বদ্ধতা রয়েছে। সমাজ, পরিবার, রাষ্ট্র সবক্ষেত্রে সমানভাবে ক্ষমতায়িত হলে নারীর প্রতি সহিংসতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব’।

আমরা যারা সম্পদে নারীদের সমান অধিকার দাবি করি, তাদের অনেকেরই ইসলামি উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা অস্পষ্ট। কারণ ফারায়েজ কোনো সহজ বিষয় নয়– এটা সকল জ্ঞানের অর্ধেক। হাদিসে বর্ণিত আছে- “তোমরা ইলমে ফারায়েজ শিক্ষা কর এবং মানুষকে তা শিক্ষা দাও কেননা এটা জ্ঞানের অর্ধেক (১/২); (তিরমিযি ২০৯১)।”

‘উত্তরাধিকার’ হচ্ছে মৃতের রেখে যাওয়া সম্পদে জীবিতদের অধিকার। এটাকে আরবিতে মিরাস বলা হয়। এই অধিকার স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা নির্ধারণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, “পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষের অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদের অংশ আছে। তা কম হোক অথবা বেশি, তা নির্ধারিত অংশ” (সূরা আন নিসা ৭)।

20220413075004.gif

আল্লাহ কেন এমন বিধান দিয়েছেন তা বোঝার জন্য উত্তরাধিকার সম্পর্কিত আইন ভালোভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। কোনো বিষয় ভালোভাবে না জেনে মন্তব্য করা উচিত নয়।

যারা নারীর সম্পদে সমান অধিকারের দাবি করেন, তারা নারী-পুরুষের অর্থনৈতিক দায়িত্বের সমতা আছে কি না– তা বিবেচনা করেন না। অর্থনৈতিক খরচের দায়িত্ব বিবেচনায় না নিয়ে শুধু সম্পদে অধিকারের ক্ষেত্রে সমান দাবি ন্যায়ভিত্তিক দাবি নয়। ন্যায়ভিত্তিক বণ্টন মানে সমানভাবে বণ্টন বোঝায় না। অধিকার এবং দায়িত্বের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টনের নীতি হলো ন্যায়ভিত্তিক নীতি। ইসলামি উত্তারাধিকার আইন একটি বৈষম্যহীন ইনসাফভিত্তিক বণ্টন ব্যবস্থা।

কন্যাসন্তান যদিও পুত্রের অর্ধেক পায়, সবকিছু মিলিয়ে হিসাব করলে দেখা যায় – কন্যার সম্পত্তির পরিমাণ পুত্রের চেয়ে কম নয়।

প্রথমত, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার পরিত্যক্ত স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তিতে নারী বিভিন্ন অবস্থায় যেমন- স্ত্রী, কন্যা, মাতা, বোন, বৈমাত্রেয় বোন, পৌত্রী, দাদি ও নানি হিসেবে উত্তরাধিকার লাভ করেন। অবস্থাভেদে এ অংশ ও অধিকারের হেরফের হয়। কিন্তু কারো বঞ্চিত হওয়ার কোনো উপায় নেই।

দ্বিতীয়ত, নারী শুধু বাবা-মা থেকে সম্পদ পায় না– আরও অনেক খাত থেকে তারা সম্পদ পায়; যেমন একজন নারী তার –মাতা, দাদা, স্বামী ও বৈপিত্রেয় ভাই অবস্থা বিশেষে অন্যান্য আত্মীয়– থেকেও মিরাস লাভ করে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments